উত্তর : এসব ক্ষেত্রে দেখতে হবে, শুধু কি বাচ্চাদের খেলবার উদ্দেশ্যেই ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে নাকি, ড্রয়িং রুমের শোভা বর্ধনের কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে। ঘরের শোভা বর্ধনের কাজে ব্যবহৃত হলে তো এটা মূর্তির জন্য দাওয়াতী কাজ হয়ে যাবে। এবং এটা হারাম । অতএব, বিষয়টি শুধুমাত্র শিশুদের খেলনার উদ্দেশ্যে বৈধ, এবং এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। আর কোন উদ্দেশ্যে নয়।
আয়শা (রা.) বলেন, ‘আমি নবী (সা.) এর সামনেই আমার বান্ধবীদের সাথে পুতুল খেলতাম। যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রবেশ করতেন, ওরা লুকিয়ে যেতো। তখন নবী (সা.) আমার সাথে খেলার জন্য ওদেরকে ডাকতেন।’ (সহীহ বুখারী, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৯৫, হাদীস নং ১৫১ এবং সহীহ বুখারী, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১২৯৯, হাদীস নং ৫৯৮১। আরও দেখুন সহীহ সুনান আবি দাউদ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৩৭৩, হাদীস নং ৪৯১৩।)
আবু দাউদ ও নাসাঈ অন্য একটি সুত্রে আয়শা (রা.)এর হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। উল্লেখিত হাদীসে আয়শা (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.) যখন তাবুক বা খায়বারের অভিযান থেকে ফেরেন, তখন আমার ঘরের তাকের পর্দার এক কোণা বাতাসে সরে যায়। ভিতরে যে পুতুল ছিল সেগুলো দেখা যাচ্ছিল। তখন নবী (সা.) প্রশ্ন করেন, ‘এগুলো কী?’ আমি বললাম, ‘আমার পুতুল।’ তিনি দেখলেন, সেগুলোর মধ্যে কাপড়ের তৈরি পাখাবিশিষ্ট একটি ঘোড়া ছিল। তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘পাখাওয়ালা ঘোড়া? আমি উত্তর দিলাম, ‘আপনি কি শুনেননি যে সুলাইমান (আ.) এর পাখাওয়ালা ঘোড়া ছিল।’ এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) এত হাসলেন যে তার মাড়ির দাঁতও আমি দেখতে পেলাম।’ (সুনান আবি দাউদ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৩৭৩, হাদীস নং ৪৯১৪। সহীহ সুনান আবি দাউদ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৯২, হাদীস নং ৪১২৩।)
এখান থেকে স্পষ্ট যে পুতুলগুলো শুধু মানুষের পুতুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, আর একথাও স্পষ্ট যে, সেগুলো বড়দের জন্য নয়, যে তারা তার শোভা অবলোকন করবে বা সাজ সজ্জা বা ড্রয়িং রূমের শোভা বর্ধনের কাজে ব্যবহার করবে, বরং, সেগুলো শুধুই ছোট ছেলেমেয়েদের খেলার জন্য। এছাড়া আর সকল ক্ষেত্রে এগুলোর ব্যবহার ও ক্রয় বিক্রয় হারাম।
এখন একজন বিক্রেতাতো জানেনা, তার এই মূর্তিটি কেউ বাচ্চাদের খেলার কাজে ব্যবহার করবে নাকি অন্য কোন কাজে, তাই উচিত হবে, উৎপাদনকারীদের এগুলো উৎপাদন করা থেকে এবং বিক্রেতাদের এগুলো বিক্রয় থেকে বিরত থাকা। এটাই তাক্বওয়ার দাবী।
Aucun commentaire:
Enregistrer un commentaire